গাইবান্ধা পৌরসভার অতীত ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বিভিন্ন সুত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, ১৮৭৫ খ্রিষ্টাব্দে বর্তমান অবস্থানে গাইবান্ধা জেলা শহরের গোড়া পত্তন হয়। এর পূর্বে গাইবান্ধা নামে কোন শহন ছিল না। ৯৩ বর্গমাইল এলাকাজুড়ে ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরে পাতিলাদহ পরগনার ভবানীগঞ্জ মৌজায় সর্ব প্রথম ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে ২৭ আগষ্ট ভবানীগঞ্জ মহকুমা নামে একটি মহকমা প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৭২ খ্রিষ্টাব্দে ব্রহ্মপুত্র নদীর পূর্বপাড়জুড়ে ব্যাপক নদী ভাঙ্গন শুরু হলে মহকুমা শহরটি হানাজনিত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ভবানীগঞ্জ থেকে ১২ কিঃ মিঃ পশ্চিমে ঘাঘট নদীর তীরে এই গাইবান্ধা নামক স্থানে মহকুমা শহরটি ১৮৭৫ খ্রিষ্টাব্দে স্থানান্তরিত হয়। তখন থেকেই ভবানীগঞ্জ মহকুমার নাম পরিবর্তন হয়ে গাইবান্ধা মহকুমা হয়। কথিত আছে যে, ৫ হাজার বছর পূর্বে মহাভারত খ্যাত মৎস্য দেশের নালা বিঘাটের রাজধানী হিল গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানায়। নাজা বিরাটের ৬০ হাজার গাভী ছিল। এই গাভীদের গো-ঢাকা তুমি এবং গো-শালা ছিল বর্তমান গাইবান্ধা পৌর এলাকা জুড়ে। সেই গাইবাঁধা এলাকা থেকে স্থানের নামকরণ হয়েছে গাইবান্ধা।
১৯০১ খ্রিস্টাব্দে গাইবান্ধা শহরটির আয়তন ছিল ২.৩৩ বর্গমাইল এবং লোকসংখ্যা ছিল ১,৬৩৫ জন। গাইবান্ধা শহন প্রতিষ্ঠিত হয় যে স্থানে, সে স্থানটি বাহারবন্দ ও মুক্তিপুর পরগণাভুক্ত এলাকা ছিল। বাহাত্মান্দ পরগণাভুক্ত পৌর এলাকাটি আদিতে ছিল কাশিমবাজানের বৃক্ষ্মনন্দীর স্ত্রী মহামানী স্বর্ণময়ীর আওতাধীন জামিদার মনীন্দ্রনন্দীর জামিদামীতে। আন মুক্তিপুর পরগণাভুক্ত পৌর এলাকার অংশটুকু ছিল থানসিংহপুরের জামিদার লাহিড়ী পরিবারভুক্ত। ডিবি মোডের দক্ষিশ দিক হচ্ছে মুক্তিপুর পরগণা এবং উত্তর অংশ হচ্ছে বাহারবন্দ পরগণা। ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দের ৩০সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গাইবান্ধা শহন এলাকায় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা ঢালু ছিল। বুটিশ সরকারের পৌর প্রশাসন ব্যবস্থা ঢালু করার পরিপ্রেক্ষিতে মহকুমা শহরগুলোতে পঞ্চায়েত ব্যবস্থার পরিবর্তে ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে পৌর প্রশাসন ব্যবস্থা ঢালু করা হয়। অন্যান্য মহকুমা সমূহে পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হলেও গাইবান্ধায় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা চালু থাকে। গাইবান্ধা শহরে সৌর প্রশাসন অর্থাৎ মিউনিসিপ্যালিটি প্রতিষ্ঠার দাবীতে ১৯১৬ সাল থেকে গাইবান্ধা মহকুমা শহনেন বিশিষ্ঠ ব্যক্তিগণ আন্দোলন শুরু করেন। গাইবান্ধা শহব্বাসীয় ক্রমবন্ধমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বুটিশ সরকার পঞ্চায়েত ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে ১৯২৩ সালের ১লা অক্টোবর গাইবান্ধা মিউনিসিপ্যালিটি প্রতিষ্ঠা করেন। শহরের ২.৩৩ বর্গমাইল এলাকা মিউনিসিপ্যালিটির অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
🔹 পৌরসভার ভৌগলিক অবস্থান
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে রংপুর বিভাগে গাইবান্ধা জেলা অবস্থিত। বগুড়া রংপুর মহাসড়ক সংলগ্ন গাইবান্ধা জেলাধীন পলাশবাড়ী উপজেলা হতে ২৩ কিঃ মিঃ পূর্বে অবস্থিত। গাইবান্ধা শহর যমুনা নদীর শাখা নদী ঘাঘট তীরে অবস্থিত। ঘাঘট নদী প্রকৃত পক্ষে ব্রহ্মপুত্র নদীর তিস্তা নদীর উপ শাখা। আলাই নদী ঘাঘট নদীর একটি শাখা নদী যাহা পৌরসভার পূর্ব পাশ দিয়ে প্রবাহিত।
এই পৌরসভার উত্তরে খোলাহাটি ইউপি, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা, দক্ষিণে বোয়ালী ইউপি, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা, পশ্চিমে কলমঝাড় ইউপি পলাশ বাড়ী উপজেলা এবং পূর্বে কঞ্চিবাড়ী ইউপি ফুলছড়ি উপজেলা।
🔹 পূর্বে পৌরসভার অবস্থান
১৯২৪ সালে গাইবান্ধা মিউনিসিপ্যালেটির অফিস পুরাতন হাসপাতাল থেকে পুরাতন সোনালী ব্যাংক ভবনের নিদের তলায় স্থানান্তন করা হয়। ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত ব্যাংক ভবনেই মিউনিসিপ্যালেটিন কাজ অব্যহত থাকে।
🔹 পৌরসভার পুরাতন ভবন
১৯৩৪ সালের ১৮ এপ্রিল পৌরসভার প্রমাতন ভবনটির ভিত্তি প্রস্তন যাপন করেন তৎকালীন ভংগুলেন ভোলা ম্যাজিস্ট্রেট এন এম আয়ান। ভবনটির নির্মাণ কালের সার্বিক তদারকী করেন প্রকৌশলী মনিন্দ্রনাথ মজুনদার। ভবন নির্মানের কাজ সমাপ্ত হলে ১৯৩৭ সালের ২৩ মার্চ পৌরসভার দামোদঘাটন করেন তৎকালীন ইংরেজ বিভাগীয় কমিশনার এল আর ফোকাস।
🔹 বর্তমান ভবন
২০০৪ সালে ভবনটির ভিত্তি প্রঞ্জন স্থাপন করেন গাইবান্ধা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী জনাব আলহাজ্ব ওয়াহিদুল আলম। ২৫/৩/২০০৮ সালে বর্তমান নতুন ভবনটি শুভ উদ্বোধন করেন জনাব মোঃ আনোয়ার-উল হাসান সরুন, চেয়ারম্যান, গাইবান্ধা পৌরসভা।