Loading...

মকবুলার রহমান সরকার

__শিক্ষাবিদ

🔹 পরিচিতি

প্রফেসর মকবুলার রহমান সরকার, যিনি এম. আর. সরকার নামে পরিচিত, ছিলেন একজন স্বনামধন্য বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসক। তাঁর জীবন ও কর্ম বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও বিজ্ঞান গবেষণার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচনা করেছে।

🔹 শৈশব ও শিক্ষা

মকবুলার রহমান সরকার ১৯২৮ সালে গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার খোর্দ্দকোমরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন নিজ গ্রামের বিদ্যালয়ে। ১৯৪৪ সালে তিনি তুলশীঘাট কাশীনাথ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন সম্পন্ন করেন এবং ১৯৪৬ সালে রংপুরের ঐতিহ্যবাহী কারমাইকেল কলেজ থেকে আইএসসি পাস করেন।

পরবর্তীতে তিনি রাজশাহী কলেজ থেকে ১৯৪৮ সালে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫০ সালে পদার্থবিজ্ঞানে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। উচ্চতর ডিগ্রির জন্য তিনি পাড়ি জমান যুক্তরাজ্যে, যেখানে ১৯৫৬ সালে লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

🔹 শিক্ষকতা ও একাডেমিক ক্যারিয়ার

১৯৫১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তাঁর পিএইচডি অর্জনের পর তিনি পূর্ব পাকিস্তান এডুকেশন সার্ভিসে যোগ দেন এবং রাজশাহী কলেজে পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

একাডেমিক জীবনের ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষ্যে তিনি ১৯৬৯ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত লিবিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পরে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে এসে ফলিত পদার্থবিজ্ঞান ও ইলেকট্রনিক্স বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন, এবং বিভাগীয় প্রধান ও অধ্যাপক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এই বিভাগটি তাঁর হাত ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞানশিক্ষা ও গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।

প্রফেসর মকবুলার রহমান সরকার ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৮১ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৮২ সাল পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর উপাচার্যত্বকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক শৃঙ্খলা, গবেষণার পরিবেশ ও শিক্ষকদের পেশাগত মানোন্নয়নে বিশেষ মনোযোগ ছিল।

🔹 ব্যক্তিগত জীবন ও মৃত্যু

তাঁর স্ত্রীর নাম ছিল খুজিস্তা আখতার ফাসিহা, যিনি নিজেও একজন শিক্ষিত ও গুণী নারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ব্যক্তিজীবনে ছিলেন অমায়িক, প্রজ্ঞাবান ও আদর্শবাদী।

এই খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ ১৯ মে ১৯৮৫ সালে পরলোকগমন করেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের শিক্ষা ও গবেষণাক্ষেত্রে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়। তিনি তাঁর কর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে এক স্থায়ী ছাপ রেখে গেছেন।