সমাজবাস্তবতার শক্তিশালী কথাসাহিত্যিক
🔹 পরিচিতি
তুলসী লাহিড়ী (১৮৯৭–১৯৫৯) ছিলেন একজন খ্যাতিমান নাট্যকার, অভিনেতা ও সঙ্গীত পরিচালক। তাঁর জন্ম গাইবান্ধা জেলার নলডাঙ্গায় এক জমিদার পরিবারে। বিএ ও বিএল পাশ করে তিনি প্রথমে রংপুর এবং পরে কলকাতার আলিপুর কোর্টে আইন পেশায় যুক্ত হন।
🔹 জন্ম ও পারিবারিক পটভূমি
আখতারুজ্জামান মোহাম্মদ ইলিয়াস জন্মগ্রহণ করেন ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৩ সালে গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নের গটিয়া গ্রামে, তাঁর মামার বাড়িতে। তাঁর বাবা বদিউজ্জামান মোহাম্মদ ইলিয়াস পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য এবং মুসলিম লীগের পার্লামেন্টারি সেক্রেটারি ছিলেন। তাঁর মা ছিলেন মরিয়ম ইলিয়াস। পিতার রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনার সূত্রে পরিবারের বসবাস ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়।
🔹 শিক্ষাজীবন কর্মজীবন
ইলিয়াসের শিক্ষাজীবনের সূচনা হয় ঢাকার সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার্স স্কুলে, এরপর কেএল জুবিলি স্কুল এবং ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে পড়াশোনা করেন। ১৯৫২ সালে পরিবারের বগুড়ায় ফিরে আসায় তিনি ভর্তি হন বগুড়া জিলা স্কুলে, এবং সেখান থেকেই ১৯৫৮ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। পরে তিনি ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৩ সালে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক এবং ১৯৬৪ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
শিক্ষাজীবন শেষে ইলিয়াস করটিয়া সা’দত কলেজে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন, তবে দীর্ঘস্থায়ীভাবে তিনি জগন্নাথ কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি সহকারী ও সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান এবং ঢাকা কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, সঙ্গীত মহাবিদ্যালয়ের উপাধ্যক্ষ, এবং মফিজউদ্দীন শিক্ষা কমিশনের সদস্য ছিলেন।
🔹 সাহিত্যজীবন
ইলিয়াসের সাহিত্যে আত্মপ্রকাশ ঘটে কবিতার মাধ্যমে, তবে তিনি শিগগিরই গদ্যধর্মী রচনার দিকে মনোনিবেশ করেন। তাঁর প্রথম গল্প প্রকাশিত হয় ১৯৫০-এর দশকে, তবে সাহিত্যে তাঁর অবস্থান পোক্ত হয় ষাটের দশকে। তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ “অন্য ঘরে অন্য স্বর” প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে, যেটি বাংলা ছোটগল্পের ক্ষেত্রে একটি নতুন বাঁক সৃষ্টি করে।
তাঁর প্রথম উপন্যাস “চিলেকোঠার সেপাই” (১৯৮৬) একটি শহর-কেন্দ্রিক রাজনৈতিক উপন্যাস, যেখানে ৬০-এর দশকের ছাত্র রাজনীতি, বামপন্থী আন্দোলন এবং একটি মধ্যবিত্ত যুবকের আত্মসংঘাতকে নিপুণভাবে চিত্রিত করা হয়েছে। তাঁর দ্বিতীয় ও শেষ উপন্যাস “খোয়াবনামা” (১৯৯৬) রচনা করেন বৃহত্তর উত্তরবঙ্গের কৃষক বিদ্রোহ ও তেভাগা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে। এই উপন্যাস বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক উপন্যাস হিসেবে বিবেচিত হয়।
🔹 সাহিত্যকর্মের তালিকা (চিহ্নিতভাবে)
তাঁর বিখ্যাত নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে:
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস একজন সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পথিকৃৎ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
🔹 পুরস্কার ও স্বীকৃতি
জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পরও আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের সাহিত্যকর্ম ব্যাপকভাবে সম্মানিত হয়েছে:
🔹 ব্যক্তিগত জীবন ও মৃত্যু
১৯৭৩ সালে তিনি সুরাইয়া তুতুল নামে এক নারী প্রভাষককে বিয়ে করেন, যাঁর ঘরে তাঁর একমাত্র পুত্র আন্দালিব ইলিয়াস জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৬ সালের জানুয়ারিতে ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং দীর্ঘ চিকিৎসাজীবনের পর ১৯৯৭ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে বগুড়ার পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়।
গাইবান্ধা পৌরসভা বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা জেলার সদর উপজেলার অন্তর্গত 'ক' শ্রেণির একটি পৌরসভা।